ফুলবউ | Phulbou

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
-_সেটা ওই ওষুধের দোকান করব বলে | ড্রাগ-লাইসেন্স পেতে গেলেও ওইটুকু বিদ্যের দরকার | যাই হোক ৷ কোনদিকে যাবে ? আমার কোন তাড়া নেই । আজ হাফ-ডে ৷ বিকালে দোকান বন্ধ । ওরা কাছেই একটা চায়ের দোকান দেখে ঢুকে পড়ল | এদিকের রাস্তায় ভিড় কম। রিকশা আর দু'চারটে জিপ বা ট্যাক্সি | দুএকখানা লরি । দুপুরে পথচারীর সংখ্যা আরো কমে যায় | চায়ের দোকানে ঢুকে এসে টেবিলের উপর ডাক্তারি ব্যাগটা রাখল মবিন ৷ মুখোমুখি বসল | শুধাল, কিছু খাবে ? মিল্লাতের প্রচণ্ড খিদে পেয়েছিল | তবু সে না বা হ্যাঁ, কিছুই বলল না । মবিন খুশিমতন অড্ডরি করল ৷ মবিনের চোখে মিল্লাতের চোখমুখ অত্যন্ত শুকনো দেখাচ্ছিল | এই দোকানে মাংসের কুচি দিয়ে ভাল রোল তৈরি করে | মবিন প্লেটে করে রোল আর লবঙ্গলতিকা দিতে বলল দুজনের জন্য । চা তৈরির জন্য বলল | বাচ্চা ছেলেটি প্লেট দিয়ে চলে গিয়ে চায়ের Bow হাঁড়ির ঢাকনা ফাঁক করে খানিক কাঁচা জল ঢেলে দিল | মবিন একখানা লতিকা তুলে মুখের কাছে এনে কামড় দিতে গিয়ে থেমে গেল | প্রশ্ন করল, তোমার সমস্যার কথা শোনাও তাহলে ! --ত্যাঁ। মিল্লাত খেতে শুরু করেছিল | কিন্তু ভেবে পাচ্ছিল না, রাজিয়ার কথা মবিনকে সত্যিই কি বলা যায় ? বলা কি যায়, সে কেন গৃহচ্যুত হয়েছে ? তার এখন কী করা উচিত ? অথবা অন্য কোন প্রশ্ন ? বাপ কেন তাকে পথে বসিয়ে গেল, এই ধরনের জিজ্ঞাসা ? মিল্লাতের মধ্যে কিসের একটা অবরোধ এসে সব প্রশ্নকে বারবার স্তব্ধ করে দিচ্ছিল । মবিন আবার তাড়া লাগিয়ে মিল্লাতের এই মৌনতার কারণ শুধালো । মিল্লাত হঠাৎ-ই মবিনকে অবাক করে দিয়ে জিজ্ঞাসা করল, তুমি এখনও সীতাহাটি যাও ? i মবিন বলল, ওখানকার ডিসপেনসারি কবেই আমি তুলে দিয়েছি। তোমায় বলিনি ? তা, সেখানে যাওয়ার কথা শুধোচ্ছ কেন ? হঠাৎ ? মিল্লাত নিজেরই কাছে নিজেকে আড়াল করে উত্তর করল, নবীনা কেমন আছে, কতকাল চিঠিও লেখে না । একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করল মিল্লাত | সেই নিঃশ্বাস পতনের শব্দ শুনে ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হেসে মবিন খাবার দিকে মনোযোগ দিল | সীতাহাটির সঙ্গে মিল্লাতের বিচ্ছেদ ঘটেছে বাপের বিয়েকে কেন্দ্র করে, মবিন তা স্পষ্ট করেই জানে | এবং তিনমাস আগে হাজীর মৃত্যুতে মবিন সীতাহাটি উপস্থিত ছিল | মৃত্যুর এক হপ্তা আগে থেকে সীতাহাটির বাড়িতে লোক আনাগোনা শুরু ১৮



Leave a Comment