চন্দ্রচকোর | Chandrachakor

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
না, আর বলেন,-_নিচের ফ্ল্যাটে বাঙালী এলেই খুনী হতেন, কিন্তু উপায় কি, কোম্পানি এখন ফ্ল্যাটের মালিক, ওরা যাকে খুশী ফ্ল্যাট দেবে, তার তো এ ব্যাপারে হাত নেই। গালাগাল দেন বিদেশী পুঁজিপতিদের, em বাঙালীকে চাকরি না দিয়ে পাঞ্জাবী Pras দেয় বলে | প্রতিবেশীরা যে যার নিজের বাড়ি বসে মন্মথবাবুকে গালাগাল ঠিকই দেয়। বলে, লোকটা কী হিপক্রিট, একেবারে চাষা, জানোয়ার। কিন্তু পথে দেখা হলে অমায়িক হেসে কুশল প্রশ্ন করে। তাঁর মেয়ের বিয়েতে নিমন্ত্রিত হয়ে ভালো৷ ভালো উপহারও দিয়েছে। তার ছেলে জার্মানিতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। তার উপর কল্ঠাদায়গ্রস্ত অনেকের লোলুপ দৃষ্টিও আছে। দখিণ.পাড়ার এই সাম্প্রতিক আভিজাতিক কৌলিলন্তে রূপায়িঙ পাড়ায় কাঠা চারেক জমি কিনে বাড়ি করেছিলেন হাইকোর্টের এ্যাডভোকেট নীহার চাটুজ্যে। তিনি যখন জমি কিনেছিলেন, তখনো TB পুরে৷ অভিজাত হয়ে উঠেনি, যদিও জমির দাম উঠে গিয়েছিলো সাড়ে তিন হাজারে | স্থতরাং তার বাড়ির স্থাপত্য এবং জীবন-যাত্রার ধরণও ছিলো মধ্যবিত্ত মানের | বেশ সোজাসুজি জীবন । সকালবেলা মক্কেল আসে, তাদের সঙ্গে বসে মামলার নথিপত্র ঘণাটা-খ1টি করেন। ছুপুরবেলা কাটে কোর্টে । সন্ধ্যেবেলা বাড়ি ফিরে অফিসঘরে বসে আবার কাজকর্ম করেন। তিনমাস অন্তর ব্যাঙ্কে মরগেজের স্থদ আর কিস্তি জমা দেন। মাসের প্রথম দিকে পাওনাদার বিদেয় করেন, রোববার সন্ধ্যায় সিনেমায় যান স্ত্রী ও কন্যার সঙ্গে । সম্ভতায় একটি ছোটো সেকেগু-হ্যাগ্ড গাড়ি কেনবার ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু যতদিন বাড়ির দেনা মিটে না যায় বা মেয়ের বিয়ে না হয়ে যায়, ততদিন আর খরচা বাড়ানো সম্ভব নয়। রোজগার স্বচ্ছল হলেও সীমাবদ্ধ, অনেক হিসেব করে চলতে হয়। ৫



Leave a Comment