শান্তিনিকেতন-বিশ্বভারতী | Santiniketan-visvabharati

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
ভূমিকা শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর ইতিহাস ভেবেছিলাম অতি বিস্তারিতভাবে 'রবীন্দ্রজীবনী' চার খণ্ডের পরিশিষ্টরূপে অনুরূপ আকারে এক খণ্ডে লিখব; তার জন্য বহু বৎসর ধরে তথ্য সংগ্রহ করেছিলাম। আরো তথ্য পাবার জন্য কয়েক বৎসর পূর্বে বাংলার প্রত্যেকটি দৈনিকে পঁচিশে বৈশাখ এক আবেদনপত্র প্রকাশ করি। তার উত্তর দিয়েছিলেন একজন প্রাক্তন QA | বুঝলাম আমরা তত্ত্বালোচনায় যতটা আনন্দ পাই, তথ্য অনুসন্ধানে ততটা উৎসাহ পাই না। এই বই লিখছি শুনে ঘরে-বাইরের অনেকেই প্রশ্ন করেন-- “সত্যকথা লিখতে পারবেন তো?” কোনো প্রাক্তন ভাইসচ্যান্সেলার বলেছিলেন, 'আপনি তো শাস্তিনিকেতনের ঘরবাড়ির ইতিহাস লিখবেন।” অর্থাৎ সকলেরই ইচ্ছা বিশ্বভারতীর এমন একটা ইতিহাস লিখি, যেটাতে এখানকার প্রকৃত মূর্তি প্রকাশ পাবে। সেই প্রকৃত মূর্তি সম্বন্ধে আমার ধারণা একটু পৃথক। আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের এবং পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের যেমন শুরুপক্ষ তেমনি কৃষ্ণপক্ষ আছে। আমি এই গ্রন্থে সেই কথাই বলেছি যা রবীন্দ্রনাথের সত্যের সহিত পরীক্ষার ইতিহাস। দেখা যাচ্ছে, স্কুল স্থাপন বা বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ ছককাটা ঘর ভরতি করলেই হয়। একটা কাগজের আঁচড়ে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে Gara few রবীন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠান সেভাবে সরকারি অনুগ্রহে পুষ্টিলাভ করে নি ze বৎসর। কবির নিজের অর্থ, বন্ধুদের অর্থ, ভিক্ষালন্ধ অর্থ, নৃত্য-সীত-অভিনয় করে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বিশ্বভারতী চলে ত্রিশ বৎসর (১৯২১-৫১)। এই অর্থ সব সময়ে ঠিকভাবে হয়তো ব্যয়িত হয় নি, সেটা অভিজ্ঞতার অভাব থেকেও বটে, পরীক্ষা করে দেখবার উৎসাহ থেকেও খানিকটা ঘটে। ভারত স্বাধীনতালাভের পর যে টাকা জলের মতো ব্যয়িত হচ্ছে, তার সবটাই কি ন্যায্য ব্যয়? মানুষের অভিজ্ঞতার অভাব তার একটা বড়ো কারণ। আমাদের প্রতিষ্ঠানেও তাই ঘটেছে। আঙুল পুড়িয়ে শিখতে হয়েছে। আগুনে স্বালা ধরেছে তবুও বারে বারে পরীক্ষা করতে হয়েছে। অপব্যয় করে জানতে হয়েছে BRAC করার প্রয়োজন। অযোগ্য মানুষের উপর ভার দিয়ে শিখতে হয়েছে যোগ্য লোকের প্রয়োজন কতটা। সবটাই যে শুভবুদ্ধির প্রেরণায় চালিত হয়েছে, তাও বলতে পারি নে। সেই কৃষ্ণ যবনিকা নাই বা তুললাম। তাতে কি সত্যের অপলাপ করা হবে? এই গ্রন্থ সাধারণ পাঠকদের জন্য লিখিত-- যাঁরা জানতে চান রবীন্দ্রনাথের সত্যের সঙ্গে পরীক্ষার কথা। পৃথিবীর কোনো কবি কোনো কালে বিদ্যালয় স্থাপন করে নিজের অর্থ, সময়, সামর্থ্য ঢেলে দেন নি। রবীন্দ্রনাথ যেখানে সাহিত্যিক, সেখানে তিনি একক, Rom কিন্তু যেখানে তিনি কর্ম সৃষ্টি করেছেন, সেখানে বহুমানবের অভ্যুদয় হয়েছে।



Leave a Comment