অহল্যাভভূমি পুরুলিয়া [পর্ব-১] | Ahalyabhumi Purulia [Pt. 1

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
অঞ্চলটি ছিল জৈনধর্মের আদি পীঠস্থান। জৈনধর্মের আওতায় পুরুলিয়া, বীকুড়া ও মেদিনীপুর বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। পুরুলিয়ায় প্রাপ্ত অসংখ্য জৈনমূর্তি ও মন্দির এই পথেরই সন্ধান দেয়। দামোদর, কংসাবতী ও সুবর্ণরেখা নদীগুলির তীরে গড়ে উঠেছিল জৈন মূর্তি ও মন্দিরগুলি। শশাংক, হর্ষবর্ধন ও ভাস্করবর্মার অভিযানের ফলে এ অঞ্চলে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, তার ফলে পরেশনাথ পাহাড় ঘিরে জৈন রাজ্যটি বিধ্বংস হয়েছিল। উপরোক্ত অভিযানকারীরা কেউ জৈনধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন all ফলে রাজনৈতিক নির্যাতনের সাথে মিলিত হয়েছিল জৈন বণিকদের বাণিজ্যের fay, যার ফলে তারা এ অঞ্চল ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু যাঁরা কৃষিকার্যের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং স্থানান্তরে যাওয়া সম্ভব ছিল না, বংশ পরম্পরায় বসবাসকারী সেই প্রাচীন জনসপম্প্রদায় সরাক নামে পরিচিত ছিলেন। তাদের একটা বড় অংশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সুইশা, সাফরন ও দুলমীতে | তারা তাদের মূল বসতির থেকে ক্রমশ দক্ষিণদিকে সরে এসেছিলেন» মোটামুটিভাবে বলা যায় যে পুরুলিয়া অঞ্চলে জৈনধর্মের প্রসারে fy শুরু হয় গুপ্ত রাজাদের সময় থেকেই | পরবর্তাঁকালে বাংলার পাল ও GT রাজারাও জৈনধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন না। ১০২৩ ধথিস্টাব্দে দক্ষিণ ভারতের শাসক রাজেন্দ্র চোলের আক্রমণের ফলেও অনেক জৈন মন্দির ধ্বংস হয়। অনেকে আখার মনে করেন যে মগধ থেকে আগত ভূমিজ সম্প্রদায় জৈনদের প্রতি বিরূপ থাকার ফলে এ অঞ্চলে জৈনধর্মের প্রসার বাধাপ্রাপ্ত হ্য়। উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি যে পুরুলিয়া অঞ্চলে আর্য সভ্যতা বিস্তারে প্রথমত জৈনধর্ম প্রভাব বিস্তার করলেও পরবর্তাঁকালে ব্রাহ্মণ্যধর্ম তার স্থান গ্রহণ করেছিল। ফলে এই জেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে কোনো না কোনো মন্দির কিংবা তাদের ধ্বংসাবশেষ আজও চোখে পড়ে। কাজেই পুরুলিয়া অঞ্চলটি মন্দির স্থাপত্য শিল্পের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়। সে তুলনায় বৌদ্ধধর্মের উপস্থিতি ছিল wert পরবর্তীকালে বৈষ্ণবধর্মও পুরুলিয়া অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করেছিল। আড়রা (আদ্রা) নিবাসী মহাপ্রভু শিবরাম গোস্বামী এবং তার সমসাময়িক ত্রিলোচন গোস্বামী পুরুলিয়ায় বৈষ্ণবধর্ম প্রচার করে অনেককে এ ধর্মে দীক্ষিত করতে সমর্থ হয়েছিলেন।ঙ বৈষ্ণবধর্মগ্রন্থ থেকে আমরা জানতে পারি যে শ্রীচৈতন্য Gio থেকে aya যাত্রাকালে মানভূম অঞ্চলে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি সম্ভবত পাকবিড়রা বুধপুর রাস্তাটি ধরে কাশীধামে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন। পরে কাশীধাম (বেনারস) থেকে তিনি মথ্ুরাতে উপস্থিত হ্ন।36 পরবর্তীকালে মুসলিম শাসনকালে আমরা পুরুলিয়া সম্বন্ধে বিশেষ কোনো তথ্য জানতে পারি না। রিয়াজু সালাতিন গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে ১১৯৮ থিস্টাব্দে বক্তিয়ার খিলজী বাংলার রাজা লক্ষণ সেনকে আক্রমণ করার পূর্বে পুরুলিয়া অঞ্চল দিয়েই যাত্রা করেছিলেন। তিনি সম্ভবত রাধা বিভাগটি জয় করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে» এছাড়া সিরাজ-ই ফিরোজশাহী গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে ১৩৫৮-৫৯ ধিস্টাব্দে সুলতান ফিরোজ শাহ OLS বঙ্গদেশ আক্রমণ করে পরে উড়িয্যা অভিমুখে রওন৷ হয়েছিলেন। তিনি পঞ্চকোট রাজ্যে প্রবেশ করে সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেমুগ্ধ হয়ে বর্ণনা করেন The area presented with low hills and 02165, dotted with orchards.” সুলতান শিখরভুমের শক্তিশালী রাজাকে পরাজিত করে সিংডভূমের মধ্য দিয়ে যাত্রা করে উড়িয্যার জাজনগরে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন» অনুরূপভাবে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে ভারতের জমি জরিপ ব্যবস্থার আমরা এক পৃণঙ্গি বিবরণ পাই। আকবরের বিশ্বস্ত মন্ত্রী টোডরমল ১০



Leave a Comment