ভারতবর্ষ [বর্ষ-44] [খণ্ড-২] | Bharatbarsha [Yr. 44] [Vol. 2]

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
পৌষ--১০*৩ ]নজর পড়তেই কেমন যেন AHS লাগে। জিজ্ঞাস দৃষ্টিতে ডাক্তারের দিকে তাকাতেই উনি অর্থপূর্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন আমার দিকে । এই দৃষ্টি আমি চিনি। বাঙালি ঘরের গুমোট-ধরানে| আলোবাতাসে যে বিভৎস রোগের Baga তাদের থাষ্ত খুঁজে বেড়াচ্ছে তাদেরই শিকার হয়েছেন Scan | দৈহিক দুর্বলতার wage পরিবেশে মাথা তুলে দাড়িয়েছে বিধ্বংসী রোগের আকাশভেদী মিনার । পরে অবশ্য এক্সরে রিপোর্টে সে রকম কিছু পাইনি |দীর্ঘ তিনমাসের সংগ্রাম। এই সংগ্রামের নামই বোধহয় জীবন-যুদ্ধ। বৌদির হাতের আর এক গাছ চুড়িও অবশিষ্ট থাকল না। হাসি কান্নার ছায়ায় মায়ায় প্রাণিত হয়ে থাকত ছোট্ট একটু সংসার--তারই ওপর ঝাপ দিয়ে পড়ল দুংস্বপ্লের দুরস্ত জোয়ার। বিপধ্যস্ত হয়ে গেল সব কিছু। সবার মুখেই বিষাদের কালো মেঘ, শুধু হীরেনদাকে বাদ দিয়ে । মাঝে মাথে জ্ঞান ফিরে আসত তার,আর কথা বলতে আরম্ভ করতেন আমার আর বৌদির সঙ্গে । বৌদি বাধা দিয়ে বলতেন--কথা বোলো নাগো, ওতে তোমার ক্ষতি হতে পারে।“তোমাদের ডাক্তার তাই বলে বুঝি?” কেমন যেন একটু বিদ্রপের হাসি লেগে আছে ওঁর ঠোঁটে । শরীরের কোমল স্থান গুলোতে আঘাত লেগে লেগে কঠিন হয়ে যাঁয়। বৌদিরও বোধহয় তাই হয়েছিল। বেশ একটু ate দিয়েই বলে ওঠেন- ই্যা ডাক্তারেই বলে। সব ডাক্তারই তো আর তোমার মত পণ্ডিত নন্‌। আত্ম্ব হয়ে যান হীরেনদা, কিছুক্ষণ পরেই আপন মনেই বলে ওঠেন-_ হারতে এবার হবেই 7--“কাকে হারতে হবে হীরেনদা ?” কথার সুত্র ধরে প্রশ্ন করি আমি।--“কাউকে না ভাই, কাউকে না--ও এমনি আমারমুখ ace কথাটা বেরিয়ে গেছে ।” কথাটা সামান্য তবু প্রতিধ্বনি করে ফিরছে আমার মনের অদৃশ্য মায়ূতন্ত্রে ৷ কার জিত? কার হার? প্রশ্ন করি নিজেকে শতবার সহমবার | উত্তর neal কিছুতেই। কিন্তু অপেক্ষা আর করতে হ'ল না বেশীদিন। দিন কয়েক পরেই সঠিক উত্তর পেয়ে গেলাম।arealআগের দিন সারারাত ধরে অক্সিজেন দিয়েছি। কাজেই সমস্ত দিনটা হোটেলের ঘরখানায় দিবানিদ্রা দিতে Val সন্ধ্যে নাগাদ হীরেনদাদের বাড়ীর দিকে পা বাড়ালাম | সদর দরজার বাইরে থেকে হাজার লোকের মিছিল। সকলেই বুঝি দুখের তিমিরে হাবুডুবু । আসল ব্যাপারটা আন্দাজ করে নিতেই ayy একটা হিমনল্োত শির শির করে পা থেকে মাথা Mire শিহরণ জাগালো। কয়েকগজ এগিয়ে বৌদিকে দেখলাম-_তার মেজ আর ছোট ছেলেটাকে বুকে চেপে দাড়িয়ে আছেন Atal ঘরের দুয়ারের কাছে। ভাবলেশহীন মুখ। কালো চোখের পটভুমিতে দুকুল ছাপানো Bar নেই, আছে গুধু বিহবলতার অন্তিম আকুতি 1 আমি কাছে যেতেই ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাতে লাগলেন cote গিলে বললাম--কিছু বলবেন?-্যা, 2 তাই--বাষ্পাকুল উত্তর বৌদির। আমি কিছু বলার আগেই বলে উঠলেন--আমাদেরই বোধহয় ভুল হয়েছে। ওর সেই রেডলাইনের পথ ধরে এগুলেই বোধহয়.'“আর কিছু বলতে পারলেন ন!। দুরস্ত rata মত Ces Sars জোয়ার ঝাপিয়ে পড়ল গণ্ডের ওপর |ততক্ষণ মৃতদেহকে নামানো হয়েছে মেঝেয়। কাঠাল কাঠের খাটটার ওপর NS রয়েছে বিছানাটা। তোষক বালিসগুলে৷ নামিয়ে আনলাম। কিন্তু একি ? মাথার দিকের তোষকের তলায় ছোট্ট একটা শিশিতে সাদ! গুঁড়া গুড়া মতন? gem কি? নিজেও মেডিক্যাল সায়ান্দের ছাত্র, কাজেই কোতুহল বশে হাতের চেটোয় খানিকটা] গুড়ে ঢেলে নিলাম। যে সন্দেহটা প্রথম থেকেই জাগছিল এবার বুঝি তাঁর নিরসনের সময় আসন্ন । উত্তেজনার চরম পর্যায়ে BSS করে উঠল সায়ু তঙ্ত্রেরayy আবেগ । স্থানকাল ভুলে ছুটে গেলাম কলেজ ল্যাবরেটরীতে । সামান্য একটু এক্সপেরিমেন্ট। উত্তরটামিল্ল হাতে হাতে-_আসে/নিক্‌ । কোনো ভুল নেইএতে । হীরেনদার রোগগ্রস্থ প্রলাপের গোটাকয় টুক্রো কথা ছুটে এল বিগত দিনের ওপার থেকে---_-"হারতে এবার তাকে হবেই”। তখন প্রশ্ন জেগেছিল কাকে হারতে হবে ? কেই বা হবে বিজয়ী ate আর প্রশ্ন নেই একটাও ? etary দিবালোকের মতই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে সবকিছু |



Leave a Comment