প্রান্তিক মানব | Prantik Manab

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
SAS সঙ্গে নাদের পার্থক্য হল এই যে তারা দলবদ্ধভাবে দেশ থেকে দেশাস্তরে গেছে, দেশ জয় করেছে, উপনিবেশ গড়ে তুলেছে এবং তারপর এক সময় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিশে CATR উদ্বাস্তুদের সঙ্গে এখানেই তাদের পার্থক্য। উদ্বাস্তুদের এদেশ জয় করে নেবার প্রশ্নই ছিল না। Sages তাদের বলা হচ্ছিল, এদেশে তাদের ঠাই S| তারা এখানে অবাঞ্ছিত। হিংস্র বিদ্বেষে ভরা শ্বাসরোধী আবহাওয়া থেকে তারা পেল অবজ্ঞাভরা yx ও মৃত্যুর শীতলতা।শিয়ালদহ স্টেশন : নরকের সিংহদ্বারভিটেমাটি ছেড়ে ছিন্নমূল মানুষ দলে দলে সীমান্ত পেরিয়ে ট্রেনে চেপে শিয়ালদহ স্টেশনে নামতে লাগল। কিন্তু তারপর? তারপর আর কিছু নেই। আপাতত যাত্রা শেষ। সমুদ্রের মতো কলকাতা শহর। সন্ত্রস্ত, সর্বহারা মানুষগুলি এই শহর দেখে ভয় পেল। তারা থেমে গেল শিয়ালদহ স্টেশনে। অমৃতবাজার পত্রিকার এক সাংবাদিক শিয়ালদহ স্টেশনে উদ্বাস্তদের সীমাহীন দুর্গতির জীবস্ত চিত্র তুলে ধরেছেন :*বৃহস্পতিবার আমি শিয়ালদহ স্টেশনে উদ্বাস্তুদের সঙ্গে বেশ কয়েক ঘণ্টা কাটিয়েছি। উদ্বাস্তরা ট্রেনে শিয়ালদহ স্টেশনে এসেছে। যতদিন তাদের অন্যত্র পাঠানো না হচ্ছে, ততদিন তারা এখানেই থাকবে। এখানে এসেই কলেরা ও অন্যান্য রোগের প্রতিষেধক টিকা নেওয়ার জন্য প্রথমেই এদের লাইন দিতে হবে। তারপর আবার পরিবারের সকলকে নিয়ে স্টেশনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তরে লাইল দেবে। সেখানে একটি সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে যে “তারা উদ্বাস্ত শিবিরে আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য।” এই পর্ব শেষ হলেই তারা শিয়ালদহ সাউথ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বিছানাপত্তর কিছু থাকলে তা পেতে ফেলবে এবং উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয়ের জন্য অপেক্ষা করবে। পল্ল্যাটফর্মের কিছুটা জায়গা দড়ি দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছিল। Bare শিবিরে স্থান না পাওয়া পর্যন্ত এই জায়গাটাই তাদের ঘরবাড়ি। ভারতে পারেন, কিভাবে এই স্বল্পপরিসর জায়গায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ Bos কন্যা দিয়ে গাদাগাদি করে দিন কাটাচ্ছে! এত মানুষের পানীয় জল সরবরাহের জন্য জলের কল মাত্র তিনটি; মহিলাদের জন্য পায়খানা মাত্র দুটি, পুরুষদের জন্য মাত্র বারোটি।প্ল্যাটফর্মে থাকাকালীন উদ্বাস্তরা সরকারের কাছ থেকে রেশন হিশেবে বিনে পয়সায় চিড়ে গুড় CIS! এই রেশন বিতরণ করত বেসরকারি ত্রাণসংস্থার কর্মীরা। এখানেই সরকার ও সংস্থার কর্মীদের দায়িত্ব শেষ। কারুর অসুখ করলে তাকে দেখাশোনা করার কেউ ছিল না, প্রসব যন্ত্রণায় কাতর কোনো মহিলারও কোনো সাহায্যের আশা ছিল না। আমি যখন সাউথ স্টেশনে গেলাম, তখন দেখলাম একজন কঙ্কালসার উলঙ্গ মানুষ হাজার হাজার নিত্যযাত্রীদের যাতায়াতের সিড়িতে মলত্যাগ করছে।এই wifes পরিস্থিতিতেও ত্রাণকর্মী সেজে কিছু মানুষ উদ্বাস্তদের প্রতারণা করছিল। তারা Care পরিবারকে আশ্বাস দিত তারা সাপ্তাহিক অর্থ ও চিড়ে গুড়েব সরকারি বরাদ্দ (ডোল) পাইয়ে দেবে। পরিবর্তে অর্থ ও ডোলের কিছুটা তাদের দিতে হবে। এছাড়া এরা যুবতী উদ্বাস্তু নারীদের দেহ ব্যবসায়ের অন্ধকার জীবনে নিয়ে যেত।১৮



Leave a Comment