রাঙা মাটির ইতিকথা উদয়পুর | Ranga Matir Etikatha Udaipur

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
MHS রাজার গৃহস্থানীয়, রাজা গৃহস্বামী। প্রকৃতিপুঞ্জ রাজার নিজ পরিজন। রাজা প্রজার ইহাই চির সম্বদ্ধ। একের মঙ্গলে উভয়েরই মঙ্গল। আপনাদিগের ইষ্ট চিত্তা আমার পক্ষে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বলিয়া আমি মনে করি।আপনারা কয়েকটি অভাব অভিযোগের কথা উল্লেখ করিয়াছেন। উহার বিস্তারিত সমালোচনা অনাবশ্যক। আপনাদিগের আকাঙ্ক্ষার সহিত আমার সম্পূর্ণ সহানুভূতি আছে এবং সময় ও সুযোগানুসারে যাহাতে আপনাদিগের অভাবগুলি ক্রমশঃ দূরীভূত হয়, তদ্বিযয়ে আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টির অভাব হইবে না, ইহা আপনাদিগকে দৃঢ়ভাবে বলিতে পারি।সর্বনিয়স্তা বিধাতা আপনাদের মঙ্গল করুন।অতঃপর নিয়মিত নজর দেওয়া হয় এবং দরবার শেষ করা হয়। বিকালে পুরান মন্দির ইত্যাদি দেখিবার জন্য বাহির হই। মহাদেব বাড়ী, চতুর্দশ দেবতার বাড়ী, লুক পানানী ইত্যাদি অনেক মন্দির ও অনেক দালান দেখি। এই সব পুরান দালানের উপর এখন বড় বড় বটগাছ হইয়াছে, এখনও কিছু টাকা, বেশী নয়, ১০০০ টাকা ব্যয় করিলে এই সকল পুরান কীর্তিগুলি রক্ষা হইতে পারে।২৮-০১-২৫ ইংআজ সকাল ৯টায় "মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী দেবী দর্শন করিতে গমন করি। রাস্তায় অমর সাগর fata দেখি। এতবড় দিঘি আমি কখনো দেখি নাই। আমার মনে হয় ইহা লম্বায় প্রায় ১ মাইল। এই দিঘির ভিতর ১৬দ৯. কানি জমি আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমানে ইহার অবস্থা শোচনীয়। এই দিঘিটিকে পুনরায় তাহার পূর্ব অবস্থায় আনিতে হইলে ৪০/৫০ হাজার টাকা দরকার রাস্তায় সুখ-সাগর জলাও দেখি। এখন ইহার প্রায় সম্পূর্ণটাই আবাদ হইয়াছে কিন্তু D.O- 2 নিকট শুনিতে পাইলাম যে গত ২ বৎসর থেকে বর্ষাকালে গোমতীর জল এই জলাটিকে WAT এবং ধান নষ্ট HCA | জল নাকি মরা নদী দিয়ে জলায় প্রবেশ করে, অতএব মরা গোমতী নদীটির সহিত যে স্থানে গোমতী নদীর যোগ হইয়াছে, সেই স্থানে একটি বীধ প্রস্তুত করা হইলে আর জল আসিতে পারিবে না। এবং জলাটি একটি প্রকাণ্ড ধান্য ক্ষেত্রে পরিণত হইবে।"মাতার মন্দির উদয়পুর হইতে প্রায় ২।। মাইল। বর্তমানে একটি রাস্তা আছে কিন্তু রাস্তাটি প্রশস্ত কম। "মাতার মন্দির "মহারাজ ধন্য মাণিক্যের কীর্তি । মা ”র দর্শন করিয়া তথাকার সরকারী ব্রাহ্মণকে পূজার অনুমতি দিয়া দক্ষিণ চন্দ্রপুরের দিকে রওয়ানা হই এবং তথায় চন্দ্রসাগর ও ছত্রসাগর নামে ২ টি দিঘি দেখি। দিঘিগুলির অবস্থা বড়ই শোচনীয় ছত্র সাগরটি শুকিয়ে যাওয়ায় তথাকার দক্ষিণ চন্দ্রপুরের) লোকের বড়ই জল কষ্ট হুইয়াছে। ইহা ছাড়াও জঙ্গলি হাতীর অত্যাচারে এ স্থানের লোকের ধান চাষ করা কষ্টসাধ্য হইয়াছে।মাতার মন্দিরে প্রত্যাবর্তন করিয়া "মাতার নিকট বলি দেওয়া দেখি এবং বলির পর মাতার পূজা করি। পূজার পর কাণী বাড়ির পুকুরে গজার মাছের মাংস খাওয়া দেখি। এই সকল মাছ লোককে মোটেই ভয় করে না। এবং পারের নিকট আসিয়া মাংস ইত্যাদি লইয়া যায়। ইহারা সর্বদাই যাত্রীদের নিকট হইতে খাদ্য পাইয়া থাকে।"রাধা কিশোর মাণিক্য বাহাদুর এই মন্দিরটিকে মেরামত করিয়া যান | তাহার পর মন্দিরটি মেরামত করা হয় নাই। সুতরাং বর্তমানে ইহার অবস্থা একেবারে খারাপ ন৷ হইলেও ভাল না।১৪



Leave a Comment