ভাঙাগড়ার পালা | Bhangagarar Pala

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
কুসুম বলে-- হ্যাদেখিস, ছৌড়া যেন কাজে ফাঁকি না দেয়। ওই জীবনের কথা বলছি। দুবেলা ঠিকমতো যেন পড়ায়। একটা মানুষের খাবার খরচা তো কম নয়। আর গেলেও তেমনি গাণ্ডে পিণ্ডে।কুসুম বলে--কী যে বল মা! বিজনদা খুব ভালো ছেলে।-_থাম তো, জীবনের পরীক্ষার ফল আগে দেখি, তারপর ব্যবস্থা করব।কুসুম বলে-_জীবন ওই সকাল-সন্ধ্যা কোনোমতে বসে মাত্র। নিজে মন দিয়ে না পড়লে ভালো CHES হবে কী BA! কমলা বলে-__সব দোষ ওই জীবনটারই না। বাপ মেয়ে কেউ আমার ওই একটা মাত্র ছেলেকে দেখতে পারিস না। ওকি বানের জলে ভেসে এসেছে লা!কুসুম জানে মায়ের টেপরেকর্ড করা ভয়েস একবার চালু হলে ক্যাসেট শেষ না হওয়া অবধি বেজেই চলবে। তাই সরে যায় সে।অবশ্য তাতেও কমলার কথা থামে না। সকাল থেকেই ওর গালবাদি্যি শুরু হয়। চলবে সেই ঘুমোতে যাবার আগে অবধি | তার মতে সংসারে ভালো নেই - কিছুই নেই। সব কিছুর বিরুদ্ধেই, সকলের বিরুদ্ধেই তার মনে অভিযোগ পুঞ্জীভূত হয়ে রয়েছে। আর সেগুলো অফুরান প্রবাহে বের হতে থাকে দিনভোর।জীবন স্কুলে যায়। কোম্পানির টাউনশিপে ছেলেদের স্কুল-মেয়েদের স্কুলও রয়েছে। এখানের কর্মীদের ছেলেমেয়েদের সেখানে পড়ানো হয়। অবশ্য এখন আশপাশের গ্রামের ছেলেমেয়েরাও পড়ে।জীবন এক এক ক্লাসে দুবার করে থেকে এতদিন ধরে বেশ পোক্ত হয়েই স্কুলের ক্লাস নাইনে এসে ঠেকেছে। পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলা আর পাড়ার মন্দিরতলার চত্বরে আড্ডা দেওয়াই তার ভালো লাগে।এতদিন ছাড়া গরুর মতোই ছিল। অবিনাশবাবু বিজনকে বাড়িতে রাখার ফলে জীবনও বেশ অসুবিধাতেই পড়েছে। আগে সে বেলা অবধি শুয়ে থাকতো। মা উঠে চা দিলে তবে বিছানা ছাড়তো জীবন। আর বৈকালে খেলার মাঠে দৌড়- dicta পর সন্ধ্যার মন্দিরতলায়, নাহয় জি টি রোডের ধারের বাজারের চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিত। এখন সেটা আর হয় না। অবিনাশবাবুই ভোরে ওকে তুলে দেয়। বিজনকেও ভোরে উঠে পড়াতে বসতে হয় জীবনকে। তারপর ওকে ডিউটিতে যেতে হয়। সন্ধ্যায় ক্লাবে যাবার জন্য মন কেমন করে বিজনের।এখানে তার বয়সি ছেলের অভাব নেই। কারখানাতেই কাজ করে অনেকে। সকলেই ক্লাবে আসে। অবশ্য নাটক হয় পূজার সময়। তার মাসখানেক আগে রিহার্সল শুরু হয়। সন্ধ্যার সময় কমলাই বলে,--কই রে জীবন, পড়তে বস। বিজন ঘরে রয়েছে। যা বই-পত্তর নিয়ে।জীবন বলে-_আজ মাথাব্যথা করছে।বিজনই বলে-_পড়তে বসলে মাথা-ব্যথা সেরে যাবে। এসো।কমলা বলে-_-তাই যা। পড়াশোনা করতে হয় বাবা। কত খরচা হচ্ছে এর জন্য, তা তো জানিস না।২০



Leave a Comment