আশুতোষ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী [খন্ড-১] | Ashutosh Mukhopadhyay Rachanavali [Vol. 1]

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
[১২] গেল জীবন | এ লেখাটি লেখা হলে, পাঠক, বলতে পারি, আপনারা লেখক-মানুযষ আশুতোষকে নিজেরাই প্রতিটি পাতা থেকে তুলে নিতে পারতেন | লেখার সম্পর্কে 'আর দুটি ঘটনা আপনাদের জানানো উচিত | যে 'চলাচল' উপন্যাস পরে অসাধারণ জনপ্রিয় হয়েছিল, সেই চলাচলের পাগুলিপি নিয়ে লেখককে প্রকাশকদের দরজায় ঘুরতে হয়েছে দিনের পর দিন | সবাই ফিরিয়ে দিয়েছিল “বেশি আবেগপ্রবণ লেখা' বলে | উপন্যাস শেষ হওয়ার অনেকই পরে “চলাচল” ছাপার অক্ষরে আসে | অথচ এখনো আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পাঠকদের মধ্যে একশো জনের ভিতর নব্বুই জনই জ্বলজলে মুখে চলাচলের নাম করে | আর তখনকার বড় প্রকাশকদের মধ্যে যিনি লেখাটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, সেই তিনিই বইটি পরে অন্যের ঘর থেকে নিয়ে (অর্থাৎ অন্য প্রকাশনায় “চলাচল*”-এর এডিশন শেষ হয়ে যাবার পর) সাগ্রহে ছাপেন 1 এ ব্যাপারে রসিক লেখক মজা করে বলেছিল, “যখন ভাল জিনিস দিতে গেলাম তখন পছন্দ হল না, এখন পরের এটো খাক 1” অপর ঘটনাটি হল 'পঞ্চতপা” মাসিক বসুমতী-তে অর্ধেক ছাপা হতে না হতেই যুগান্তর সাহিত্য বিভাগে তেখন আশুতোষ যুগান্তর পত্রিকাতে দশ নম্বর চাকরিতে ঢুকেছে) এক বিরাট নামজাদা প্রকাশক এসে হাজির হলেন “পঞ্চতপা” উপন্যাসের প্রকাশনা-সত্ত্ব উপন্যাস শেষ হওয়ার আগেই নিয়ে নিলেন । “পঞ্চতপা' যেদিন বই-আকারে দুনিয়ার মুখ দেখল, সেদিন বিকেলবেলায় লেখক ওই প্রকাশনা-সংস্থায় গেলে, গম্ভীরমুখে জবরদস্ত প্রকাশক তার হাতে একখানা “চেক' ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “একটা শর্ত আছে | এরপর আপনার পরপর ছটি উপন্যাস আমাদের দেবার আগে আর কাউকে দিতে পারবেন না ।” আনকোরা লেখকের নিজের কানদুটোকে বিশ্বাস, হচ্ছিল না-ঠিক শুনছে তো ! এতবড় অফার ! এই বিরাট প্রতিষ্ঠানে !... পাঠক, সেই বিরাট প্রকাশক হলেন সাহিত্যিক গজেন্দ্রকুমার মিত্র | সত্যিই বিরাট । বিরাট চেহারা, বিরাট মন, রাজকীয় অন্তর | আর সেই বিখ্যাত প্রকাশনা-সংস্থার নাম'মিত্র ও ঘোষ' | গজেন্দকৃমার মিত্র সেদিন 'পঞ্চতপা'-র PAGS AS করিয়ে বলেছিলেন, “হাঁড়ির একটা ভাত টিপেই যা বোঝার বুঝে নিয়েছি 1”...আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তার অগ্রজ- প্রতিমের এই বিশ্বাস, লেখক-ও-মানুষ দুইয়ের হিসেবেই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রেখে যেতে পেরেছিল | পাঠক-পরমেশ্বর, “পঞ্চতপা' নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘটনাটির সাক্ষী- প্রমাণ আজ আর দিতে পারব না | আপনাদের কাছে এটি 'হিয়ারসে' বা 'শোনা-কথা' হিসেবেই রইল | কিন্তু পঞ্চতপার দ্বিতীয় ঘটনার প্রমাণ সাড়ম্বরে এখনো আপনাদের এজলাসে পেশ করতে পারি | তার দরকার হবে কি ? || ৫ i) অস্তরে-অস্তঃপুরে সূতরাং পাঠক, আপনারাও দেখলেন আর লেখকেরও নিজের কথায়- সাহিত্যজগতে প্রথম প্রবেশের ব্যাপারে প্রথম অনুভূতিটি আর যাই হোক 'থরথর প্রথম পরশ কুমারীর' মতো কিছু নয় । এই প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ার পেছনে সজাগ মস্তিষ্কের কোন ছক-বাধা পরিকল্পনা ছিল না, কোন প্রস্তুতি ছিল না, কোন অনুকূল পরিবেশ ছিল না, বা কোনরকম বৃহৎ প্রেরণার



Leave a Comment