কোয়েলের কাছে | Koyeler Kache

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
মামারাও প্রায় তিন-চার পুরুষ হলো পূর্ণিয়ায়। নাম যাই হোক আমাদের, আমরা বাঙালিই হচ্ছি | আমি বললাম, তা তো নিশ্চয়ই । বাঙালি তো হচ্ছেনই | যশোয়স্তবাবু বললেন, ঘোষসাহেব আমাকে জানালেন আপনার কথা | বললেন খুব বড়া খানদানের ছেলে, অবস্থা বিপাকে বহত পড়ে-লিখে হয়েও এই জঙ্গলের কাজ নিয়ে এসেছেন, অথচ জঙ্গলের জানেন না কিছুই । তাই ভাবলাম, আপনাকে একটু তালিম দিয়ে যাই | তারপর একটু চুপ করে থেকেই বললেন, এখানে কোনও রক্তের সম্পর্কের প্রয়োজন নেই | আমরা সকলে সকলের রিস্তাদার 1; একজন অন্যজনের জন্যে জান কবুল করতেও কখনও হটে না | আও দোস্ত, হাত্‌্সে হাত fens | যশোয়স্ত আমার হাতটি চেপে ধরলেন আস্তরিকতার সঙ্গে । যদিও একটু ঘাবড়ে গেলাম, তবুও বললাম, ভালই হোল ৷ খুব ভাল হোল | একেবারে একা-একা যে কি করে এখানে দিন কাটাতাম জানি না। যশোয়স্তবাবুর অদ্ভুত সহজ স্বভাবের গুণে অনল্পক্ষণের মধ্যেই আমরা 'আপনি' থেফে 'তুমি'তে এলাম । অবশ্য পাঁচ মিনিটের মধ্যে সদ্য-পরিচিত কাউকে “তুমি' বলা যায়, এ একেবারে অবিশ্বাস্য ব্যাপার | যদি কেউ কোনদিন যশোয়স্তকে দেখে থাকেন, তবে একমাত্র তিনিই এ কথা অবলীলায় বিশ্বাস করবেন | রামধানিয়া চা নিয়ে এলো, চেরি গাছের তলায় | চিড়ে ভাজা আর চা | ফুরফুর করে হাওয়া দিচ্ছে । একজোড়া বুলবুলি পাখি এসে চেরি গাছের পাতার আড়ালে বসে শিস দিচ্ছে । উপরে তাকালে দেখা যায়, শুধু নীল আর নীল | আশ্চর্য শাস্তি । পাহাড়ের নিচের গ্রামের ঘুম ভেঙেছে অনেকক্ষণ | ACTA নামও FAN ; নদীর নামে নাম। ঘন জঙ্গলের আস্তরণ ভেদ করে ধোঁয়া উঠছে এঁকেবেঁকে ৷ পেঁজা তুলোর মতো । আকাশের দিকে । পোষা মুরগির ডাক, ছাগলের 'ব্যা” “Ml Aa, মোষের গলার ঘণ্টা । কাঠ-কাটার আওয়াজ, এবং ইতস্তত নারীকণ্ঠের SHA ভেসে আসছে হাঁওয়ায় । বেশ ভালো লাগছে | আমিও একেবারে একা AR) অনেক লোকই তো আশেপাশে ৷ বেশ HON, সরব জীবস্ত সকাল । বেশ ভালই লাগছে, রাতের ভয়টা কেটে গিয়ে | ANAS বলল যে, আমার কাজ এমন কিছু নয় । কাগজ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদার আছেন | সেই ঠিকাদারেরা লরিবোঝাই বাঁশ কেটে কেটে বিভিন্ন স্টেশনে পাঠাবেন, সেইসব বাঁশ ঠিক সাইজমতো হচ্ছে কিনা, সময়মত পাঠানো হচ্ছে কিনা, এইসব কাজ SHAS করা | যশোয়স্ত এখানকারই ফরেস্ট AGA, ওর কাজ, যাতে বনবিভাগের কোনও ক্ষতি না হয়, বনবিভাগের প্রাপ্য পাওনা ঠিকমত আদায় হুচ্ছে কি হচ্ছে না, ইত্যাদি দেখা । আমার কাজ sore নয়, আহামরি আরামেরও কিছু নয় | মাঝে মাঝে জিপ নিয়ে “ger 'কুপে' ঘুরে আসা । যতদিন নিজের. জিপ না আসে, ততদিন একটু BE | তাও রোজ যাবার দরকার নেই | শুধোলাম,- হেঁটে, হেঁটে জঙ্গলে যেতে হবে; কিন্তু অংলী জানোয়ারের ভয় নেই COI ? ১৮



Leave a Comment