আবহমান ভারত | Abahaman Bharat

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
ভারতবর্ষ ৯ বিভক্ত করেছেন। বৌধায়নের ধারাকে গ্রহণ করেছেন রাজশেখর, তাঁর কাব্যমীমাংসায়। বৌদ্ধ লেখকরা, বিশেষ করে হিউয়েন-সাং ভারতবর্ষের পাঁচটি ভাগের কথা বলেছেন। মহাভারতও ভারতবর্ষকে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করেছে যার প্রধানটি হল মধ্যদেশ। মৎস্য ও বিষ্ণুপুরাণেরও এই AS বায়ুপুরাণে নয়টি খণ্ডের উল্লেখ থাকলেও ভারতবর্ষকে যে প্রধানত পাঁচটি খণ্ডে বিভক্ত করা যায় এই মতটিকে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। বিষ্ণুপুরাণে বলা হয়েছে যে মধ্যদেশে বসতি স্থাপন করেছিল কুরু আর পাঞ্চালরা। তাদের পূর্বে ছিল কামরূপ এবং দক্ষিণে কলিঙ্গ ও মগধ। এই দুই দেশের সংলগ্ন অঞ্চলে বাস করত AGA) মধ্যদেশের পশ্চি মে ছিল সৌরাষ্ট্র। সেখানে বা তার চারপাশে বাস করত FA, আভীর, অর্বুদ, সৌবীর এবং সৈন্ধবরা। সৌরাষ্ট্রের সংলগ্ন ছিল মালব। মধ্যদেশের উত্তরে বাস করত GID, পারসিক, BA, AT (ইউরোপের ANS?) এবং রমগণ (রোমান?)। এই যে ভারতবর্ষ তা নিঃসন্দেহে বৃহত্তর ভারতের পটভূমিকায় প্রতিষ্ঠিত ক্ষুদ্রতর ভারতবর্ষ । পরাশর ও বরাহমিহির ভারতবর্ষকে 'নবখণ্ড' বা নয়টি ভেদে ভাগ করলেও ভারতবর্ষের যে ছবি তারা এঁকেছেন তা মূলত ক্ষুদ্রতর ভারতবর্ষের ছবি। তাদের মতে ভারতবর্ষের আকার কর্মের মতন যাকে তারা নাম দিয়েছেন Faber | এই চক্রে আছে নয়টি ভেদ, বরাহমিহিরের ভাষায় নয়টি “বর্গ” যা কম্পাস বা দিকনির্ণয় যন্ত্রের দশটি দিকের নয়টি দিককে নির্দেশ করে। এই দিকগুলি হল মধ্য, পূর্ব, দক্ষিণ, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ-পূর্ব (অগ্নি), দক্ষিণ-পশ্চিম (CAMS), উত্তর-পশ্চি ম (বায়ু) এবং উত্তর-পূর্ব ঈশান)। মধ্যদেশের অন্তর্গত প্রধান দেশ হল পাঞ্চ toi, পূর্বের মগধ, উত্তর- পূর্বের পুলিন্দ, উত্তরে মদ্র, উত্তর-পশ্চি মের হরহৌর (SAGA), পশ্চিমের সিন্ধু, দক্ষিণ পশ্চি মের অনার্ত, দক্ষিণের অবস্ত (অবস্তী) এবং দক্ষিণ-পূর্বের কলিঙ্গ। TON পুরাণও মোটামুটি এই বিভাগকে স্বীকার করে নিয়েছে। Tae পুরাণে ভারতবর্ষ বা কুমারী দ্বীপকে সাতটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এই সাতটি ভাগের যে বর্ণনা তা পরাশর ও বরাহমিহির কথিত নয়টি ভাগ বা মহাভারত ও অন্যান্য কয়েকটি পুরাণের পাঁচটি ভাগ থেকে খুব বেশি অন্যরকম নয়। এই সাতটি ভাগ হল মধ্যদেশ, উদীচ্য বা উদীচী (উত্তর), প্রাচ্য (পূর্ব), দক্ষিণাপথ (দক্ষিণ), অপরাস্ত (পশ্চিম), বিস্ধ্যাঞ্চল ও হিমালয় পর্বতের সংলগ্ন অঞ্চল (পর্বতাশ্রয়িনঃ)। ১১। উপরের আলোচনা থেকে এই কথাটি স্বচ্ছ হয়ে ওঠে যে প্রাচীন আর্যরা একটি বৃহত্তর ভারতবর্ষের ধারণা থেকে শুরু করলেও ভারতবর্ষের অভ্যন্তরে তাদের অগ্রগতি ও অগ্রবিস্তারের সঙ্গে তাল রেখে তারা তাদের ভারতবর্ষ সম্বন্ধে ধারণাকে ছোট করে আনছিলেন, কিংবা, হিমালয়ের ওপারের ভারতবর্ষ সম্বদ্ধে তাদের Cee কমিয়ে এনে হিমালয় ও সমুদ্রের মধ্যে আবদ্ধ ভারতবর্ষ সম্বন্ধে তাদের জিজ্ঞাসাকে ব্যাপক করার চেষ্টা



Leave a Comment