মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনাসমগ্র [খণ্ড-৩] [সংস্করণ-২] | Manik Bandyopadhyay Rachanasamagra [Vol. 3] [Ed. 2]

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
বউ ১৫ “AERA তার মা বেশি ভালোবাসে তা তো জানে সরলা, ওই টাকাটা বাগানোর ফিকিরে আছে শত, নয়তো এত বেশি ও বাড়িতে যাওয়ার তার কী দরকার ! বাজারে মস্ত দোকান খুলিবে শত্ভু, এবার আর দোকানদারি নয়, রীতিমতো ব্যাবসাদারি,-_বাবাকে বাকি টাকাটা একসঙ্গে দিবার কথা বলিতে সরলা যেন না ভোলে। দুর্গা দুর্গা। না, এ বেলা আর রাধিবার দরকার নাই। ফলার-টলার করিলেই চলিবে। আহা, গরমে সরলার বাীঁধিতে কষ্ট হইবে যে। সরলা জানে হিসাবে ভুল হইতেছে, বাটখারা লাভের দিকে না-ঝুঁকিবার সম্ভাবনা আছে, তবু স্বামীর সঙ্গে আর বেশি দোকানদাবি করা ভালো নয়। বাপের টাকায় স্বামীকে কিনিয়া রাখিয়াছে এক বছর, এবার তাকে মুক্তি দেওয়াই ভালো, তাতে যা হয় হইবে। একদিন তো নিজেকে কোনো রকম রক্ষাকবচ ছাড়াই স্বামীর হাতে সমর্পণ করিতে হইবে তার। তা ছাড়া এক বছর ধরিয়া স্বামী তাকে যে রকম ভালোবাসিয়াছে সেটা শুধু নিজের মনের খুঁতখুঁতানিব জন্য ফাঁকি মনে করা উচিত নয়। অবশ্য, পেটে যে সম্ভানটা আসিয়াছে সেটা জন্মগ্রহণ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করিলেই সবচেয়ে ভালো হইত, এতদিন একসঙ্গে বাস করিয়া সরলার কি আর জানিতে বাকি আছে নিজের ছেলের মুখ দেখিলে শুর পাকা শক্ত মনটা কী রকম কাঁচা আর নরম হইয়া যাইবে। তবে ছেলেটার APIS এখনও অনেক দেরি। তার আগে জমি বেচিয়া বাজাবে মনিহারি দোকান খুলিয়া বসিলে =e ভাবিবে সব কীর্তি তার একার, কারও কাছে কৃতজ্ঞ হওয়ার কিছু নাই। আগেকার কথা মনে করিয়া সরলা অবশ্য ভাবিয়া উঠিতে পারে না কৃতজ্ঞতার কতখানি দাম আছে “Wa কাছে। বাজারে মনিহারি দোকান খুলিয়া দু-একবছরের মধ্যে এমন অবস্থা যদি হয় TA যে মাঝখানের বেড়াটা ভাঙিয়া সরলা নির্ভয়ে এবং সুখে-শাস্তিতে, একরকম বাড়ির sata মতোই সকলের সঙ্গে বাস করিতে পারে, হয়তো অকৃতজ্ঞ পাষাণের মতো te নিজেই তাকে দাবাইয়া রাখিবে। তবু, ভবিষ্যতেও সে তার বশে থাকিতে পারে এ রকম একটু সম্ভাবনা যখন দেখা গিয়াছে এবারে হাল ছাড়িয়া দেখাই ভালো যে কী হয়। সরলার সন্দেহপ্রবণ অবিশ্বাসী বাবা মেয়ের অনুরোধ শুনিয়া প্রথমটা একটু ভড়কাইয়া গেল। একসঙ্গে তিনশো টাকা ! জামাইকে আর এঞটি পয়সা না fara কথাই সে ভাবিতেছিল। দোকান যেমন চলিতেছে ATA, তাতে দুজন মানুষের খাইয়া-পরিয়া থাবা চলে, বড়োলোকের মতো না হোক গরিবের মতো চলে। জামাইকে বড়োলোক করিয়া দিবার তার তো সে গ্রহণ করে নাই। মোট ছশো টাকা অবশ্য সে দিবে বলিয়াছিল, তবে সংসারে কত সময় মানুষ অমন কত কথা বলে, সব কি আর চোখকান বুজিয়া অক্ষরে অক্ষরে পালন করা উচিত, না তাই মানুষ পারে ? অবস্থা বুঝিয়া করিতে হয় ব্যবস্থা। তাছাড়া, বাজারে মনিহারি দোকান খোলার মতো দুর্বৃদ্ধি যদি “ne করিয়া থাকে কাদিয়া-কাটিয়া সরলা অনর্থ করিতে থাকে, কত কষ্টে বাপের কাছ হইতে টাকাটা সে আদায় করিয়া দিতেছে, NS তা বোঝানোর জন্য যতটা দরকার ছিল তার চেয়ে বেশি কীাদাকাটা করে! দেবে বলেছিলে এখন দেবে না বলছ বাবা ?-_-বলিতে বলিতে দুঃখে অভিমানে বুকটাই যেন ফাটিয়া যাইবে সরলার। একসঙ্গে তিনশো টাকা “ওয়া সরলার বাবার পক্ষে সহজ নয়, তবু একবেলা মেয়ের আক্রমণ প্রতিরোধ করিয়া সে হার মানিল। ছেলে তার আছে তিনটা কিন্তু আর মেয়ে নাই। সরলা তার একমাত্র মা-মরা ছোটো মেয়ে। কোথায় দোকান করিবে, কী রকম দোকান খুলিবে, কত টাকার জিনিস রাখিবে দোকানে আর কত টাকা পুঁজি রাখিবে হাতে, AGTH এ সব অনেক কথা জিজ্ঞাসা করিয়া সরলার বাবা গম্ভীর চিন্তিত মুখে বিদায় হইয়া গেল। সরলা বলিল, দেখলে ?



Leave a Comment