গল্প সমগ্র [খণ্ড-২] | Galpasamagra [Vol. 2]

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
খেয়ে হজম করার শত্তি ছিল 1 এই বয়সেও ছানি পড়েনি | চোখে দূরদৃষ্টি অথবা নিকট- দৃষ্টির চশমা লাগাতে হয়নি। প্রাচীন অভ্যাস, খড়ম পায়েই হাঁটাচলা করেন পাড়ার রাস্তায় । তাঁর হাঁটার দৃপ্ত ভঙ্গিমার দিকে লোকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। প্রবীণরা ডেকে ডেকে যুবকদের দেখান--'দ্যাখ, FLA মানুষের চেহারা দ্যাখ 1 এই বয়সেও কেমন হাঁটছেন, 'খাপখোলা তলোয়ারের মতো ।' চামড়া এখনও তেলা, টানটান, মসৃণ । চুল পেকেছে, কিন্তু টাক পড়েনি। সাংঘাতিক রজোগুণী মানুষ। সিংহের মতো স্বভাব কারোকে পাত্তা দেন না। পরোয়া করেন না। জীবনে কারোর কাছে হাত পাতেননি। প্রায় মাথায় মাথায় একটি শিশু-পুূত্র ও কন্যা রেখে স্ত্রী চলে যাবার পর আবার বিয়ের জন্যে আত্মীয়-স্বজনেরা যখন ভীষণ উৎপাত শুরু করলে, তখন দুম করে অনেক টাকা মাইনের রেল কোম্পানির ভালো চাকরিটা ছেড়ে দিলেন । বললেন, 'আর তো কোনও সমস্যা নেই। নিজের ছানাদের মানুষ করবো! সংসারে কোনও সার আছে ? ছ'বছরের বিবাহিত জীবনে হিসেব করলে দেখা যাবে, ক্ষেপে ক্ষেপে তিনটে বছর গেছে ঝগড়ায়। দেড় বছর গেছে রোগের সেবায় । আর দেড়টা বছর একটু প্রেমালাপ | মার ঝাড়ুমার, ঝাড়ু মেরে বৌঁটিয়ে বিদেয় কর।বৃদ্ধ ছেলে আর মেয়েটিকে কিন্তু ভীষণ ভালবাসতেন | মেয়ের মধ্যে দেখলেন HTH, হলের মধ্যে পেলেন PRAT | ঢুকে পড়লেন সাধনার জগতে | শুরু হল তন্ত্রসাধনা। আরম্ভ হল যোড়শোপচার-এ তারা মায়ের পূজা | কোথা থেকে এসে গেলেন এক তন্ত্রসিদ্ধ পূজারী । বৃদ্ধ এক সময়ে ধুপদ শিখতেন ৷ নিজেই আবার শুরু করে দিলেন সংগীতসাধনা | বিশাল তাঁর কণ্ঠ ৷ জয় শিব eats, wer শিব esta, বলে যখন তানপুরা বেঁধে গান ধরতেন, পাড়া-প্রতিবেশীকে তখন নিজেদের কথাবার্তা জোরে জোরে বলতে হত । কিছুই শোনা যেত না, মুকুজ্যেমশায়ের গানের ঠেলায়। বাড়িতে ঘনঘন ALTA আগমন হতে লাগল। গৃহ হয়ে উঠল আশ্রম। অল্প বয়সেই মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিলেন ভাল ঘরে । আদর্শবাদ, ভয়ঙ্কর এক রাগী মানুষের সঙ্গে । ছেলেটিকে মেয়ে-জামাইয়ের হেপাজতে রেখে চলে যেতে লাগলেন হিমালয়ে ৷ পরিব্রাজকের বেশ হল গেরুয়া | হাতে দণ্ড-কমণ্ডুলু, কাঁধে কম্বল। পাহাড়, ঝরনা, ass, হিমবাহ হল জীবনের সঙ্গী | হরিদ্বারে মিলে গেল গুরু । রাজসিক ভোগী হয়ে গেলেন যোগী | চাঁদের আলোয় পাহাড়ী ঝরনার সঙ্গে গলামিলিয়ে গান শোনাতেন পরমেশ্বরকে |সেই বৃদ্ধ খড়ম খটখটিয়ে আসছেন। হাতে একটা চটের ACT! নাতনীরা দাদার পিঠে সৌটা সৌঁটা খতের উপর ওষুধ লাগাচ্ছে | সুধা SOA হয়ে এগিয়ে আসছেন বৃদ্ধ PTA হাত থেকে AAG নেবার জন্যে । এমন সময় TH ঘরে শঙ্কর চড়া পর্দায় গান ধরলেন, “Mt গো তুমি শুধু বেদনাই দিতে জানো ।'বৃদ্ধের গানের কান । TH দরজার দিকে তাকিয়ে বললেন, 'কি হল, দোর বন্ধ করেই ভরদুপুরে দরবারী ধরলেন, খুনোখুনি হয়েছে বুঝি ?'ছোট নাতনীর মুখ হালসা, সে আগেই বলে বসল, 'এই দেখ না বুড়োদা, ভাইদাকে কি রকম মেরেছে।''কে মারলে ওরকম করে ! রাস্তায় বুঝি মারামারি করতে বেরিয়েছিল ?'



Leave a Comment