একশো বছরের প্রিয় গল্প | Eksho Bacharer Priya Galpa

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
১৪ 0 একশ বছরের প্রিয় গল্প মধ্যাহ্নকাল বিগত প্রায়। জ্যৈষ্ঠ মাসের আম-পাকান রৌদ্র বাহিরে ঝী ঝা করিতেছে। অনাথশরণ বহির্ব্বাটীর একটি কক্ষে ডেস্কের সম্মুখে চেয়ারে উপবিষ্ট। এই কক্ষটি তাহার নিজস্ব। এইখানেই রাত্রে শয়ন করে। ভিত্তিগাত্রে কয়েকখানি বিলাতী ছবির সঙ্গে একটি একতারা টাঙ্গানো, প্রভাতে ও WAS এইটি বাজাইয়া সে ব্রহ্মসঙ্গীত করিয়া থাকে। গৃহসজ্জায় মধ্যে একটি ক্লক, একটি আলমারি, একটি আলনা এবং শয়নের খাট ছাড়া আর কিছুই নাই। ডেস্কের ভিতর হইতে অনাথ হেমস্তকুমারের একখানি সদ্যঃপ্রাপ্ত চিঠি বাহির করিয়া পড়িতে আরম্ভ করিল। তাহার যেখানে যেখানে নগেন্দ্রবালার নাম ছিল, সেখানে সেখানে চুম্বন করিল। চিঠিখানি সম্মুখে রাখিয়া, চক্ষু মুদ্রিত করিয়া, কি যেন ধ্যান করিতে লাগিল। oe ঠং করিয়া ঘড়িতে দুইটা বাজিয়া গেল। অনাথ তখন ধীরে ধীরে চক্ষু খুলিয়া, পত্রখানি খামে বন্ধ রুরিল। এক টুকরো কাগজ লইয়া, ভাবিয়া চিস্তিয়া লিখিল s— “আজ রাত্রি বারটার পর সকলে নিদ্রিত হইলে তুমি একবার আমার ঘরে আসিও |” লিখিয়া কাগজখানিকে পাকাইয়া পাকাইয়া ছোট করিল। পূর্ববকথিত খামসুদ্ধ চিঠিখানি ডেস্কে বন্ধ করিয়া বাহির হইয়া গেল। অস্তঃপুরে প্রবেশ করিয়া দেখে, অঙ্গন Gry | প্রথম কক্ষে, তাহার বউদিদি কয়েকজন সখীকে লইয়া তাস খেলিতেছেন। দ্বিতীয় কক্ষে প্রবেশ করিয়া দেখিল, পালঙ্কের উপর জননী নিদ্রামগ্না। কুলুঙ্গীর কাছে তাহার বালক ভ্রাতুষ্পুত্রটি দীড়াইয়া, চুরি করিয়া কুল আচার ভক্ষণ করিতেছে। কাকাকে দেখিয়া সে অপ্রতিভ হইয়া হাসিয়া ফেলিল। কাকা তাহার প্রতি দৃক্পাত না করিয়া সে স্থান ত্যাগ করিয়া গেলেন। তৃতীয়টি পূজার ঘর; নারায়ণ-শিলা আছেন। মূর্তিবিদ্বেষবশতঃ ইদানীং অনাথশরণ এই কক্ষে প্রবেশ করিত না। বাহিরে দাঁড়াইয়া দেখিল, তাহার স্ত্রী মন্দাকিনী মেঝের উপর বঁটি পাতিয়“তেঁতুল কাটিতেছে। দক্ষিণ হস্তের কাছে কলার পাতার উপর কতকটা কাটা তেঁতুল; বঁটির নিম্নে একরাশি HAS ছড়ান। মন্দাকিনীর ওষ্টাধর তাম্কুলরাগরঞ্জিত; কপালে বিন্দু বিন্দু ঘর্ম; অঞ্চলাগ্র গলায় জড়ান। মন্দা আপন মনে হেঁট হইয়া তেঁতুল কাটিতেছিল। স্বামীকে দেখিতে পাই নাই। অনাথ প্রায় এক মিনিটকাল বিস্ময়াবিষ্ট হইয়া স্ত্রীর মুখ পানে চাহিয়া রহিল। বিবাহের পয় এই সে প্রথম মন্দাকে ভালো করিয়া দেখিতেছে। উঠানে আমগাছের শাখা হইতে একটা পাকা আম বাতাসে পড়িয়া গেল। সেই শব্দে মন্দা চমকিয়া বাহিরের পানে চাহিল;ঃ--দেখিল বারান্দায় স্বামী দাঁড়াইয়া। তৎক্ষণাৎ সে বঁটি ছাড়িয়া উঠিয়া পড়িল। আধহাত পরিমাণ ঘোমটা টানিয়া জানালার কাছে সরিয়া দাড়াইল। তাহার অঞ্চলবদ্ধ চাবিগুলি ঝিন্‌ ঝিন্‌ করিয়া বাজিয়া উঠিল। অনাথ মৃদুপদক্ষেপে ঘরে প্রবেশ করিল। মন্দাকিনীর পা লক্ষ্য করিয়া পাকানো কাগজখানি ছুঁড়িয়া দিয়া বাহির হইয়া গেল। সে চলিয়া গেলে মন্দা কাগজখানি কুড়াইয়া লইল। প্রথমতঃ দুয়ারটা বন্ধ করিয়া দিল। জানালার কাছে আসিয়া কাগজখানি খুলিয়া পাঠ করিল। তাহার পর একবার বাহিরে চাহিল। একটা আমগাছে Sot পাকা অসংখ্য আম ধরিয়া রহিয়াছে। তাহার ভিতরে বসিয়া কোকিল ডাকিতেছে। অনেক দূরে ঘুঘু ডাকিতেছে। আবার কাগজখানি পড়িল; আবার আমগাছের পানে চাহিল। গাছের ফাকে আকাশ দেখা যাইতেছে। মন্দা কাগজখানিকে বুকে চাপিয়া ধরিল। গলবন্ু



Leave a Comment