আরো দশটি উপন্যাস | Aro Dashti Upanyas

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
১৮ / আরো দশটি উপন্যাসছেলেবেলা থেকে বৈশালী দেখে আসছে বাবার প্রতি মায়ের বিশ্বাস অকুষ্ঠ, আস্থা দ্বিধাহীন। বাবার পায়ে নিজের সমস্তটুকু আনুগত্য সঁপে দিয়ে তিনি ঘরসংসার করে চলেছেন। কিন্তু এটা কোনোভাবেই চলতে পারে না।মায়ের দিকে চোখ রেখে কোনাকুনি বৈশালী নিজের ঘরের দিকে এগিয়ে গেল।ময়না তাকে দেখতে পেয়েছিল। সূুচরিতাকে সে বলল, “মা, দিদি এসেছে।টিভির পর্দা থেকে দৃষ্টি সরালেন না সুচরিতা। নিশি-পাওয়া মানুষের মতো সিরিয়াল দেখতে দেখতে বললেন, 'তনি এলি?'বৈশালীর ডাক নাম তনি। বিকেল থেকে তার মাথায় যে উত্তাপ জমা হচ্ছিল তার খানিকটা বেরিয়ে আসে। ঝাঁঝাল গলায় সে বলে, “Seমেয়ের মেজাজের গতিপ্রকৃতি লক্ষ করলেন না সুচরিতা। বললেন, চা খাবি?বৈশালী উত্তর দিল না।সুচরিতা অন্যমনস্কর মতো বললেন, চা খেলে ময়নাকে বলিস | করে দেবে।চুপচাপ, থমথমে মুখ, আরো ক'পা গিয়ে সব্যসাটী আর রাহুলের ঘরের দিকে তাকাল বৈশালী। দুটো বেডরুমই ফাঁকা, তবে আলো Hag রাহুল এ বছর ইকনমিকসে এম. এ দিয়েছে। রেজা এখনও বেরোয় নি। ইউনিভার্সিটির শেষ পরীক্ষাটা দেবার পর একেবারে সাপের পাঁচ পা দেখেছে। যখন খুশি আসে, যখন খুশি বাড়ি থেকে বেরোয়। বন্ধু DH জুটিয়ে কোথায় কোথায় আড্ডা মেরে বেড়াচ্ছে কে জানে।বেশির ভাগ দিন সাতটার ভেতর বাড়ি ফিরে আসেন সব্যসাটী। অফিসের কাজে কলকাতার কাছাকাছি কোথাও গেলে ফিরতে দেরি হয়। মাঝে মাঝে দু-চারদিনের জন্য বাইরেও যান-_বিশেষ করে নর্থ বেঙ্গল বা দুর্গাপুর আসানসোলের দিকে।নিউ মার্কেটে ওই মহিলাটিকে দেখার পর সন্দেহ হচ্ছে, সব্যসাচী হঠাৎ হঠাৎ যে ofa করে বাড়ি ফেরেন কিংবা মাসে তিন চার বার বাইরে যান তার সবগুলোই অফিসিয়াল ট্যুর কিনা। ট্যুরের বাহানা করে AMMAN যে যান না, জোর করে এখন SA তা বলা যাবে না। বাবার সম্পর্কে বৈশালীর বিশ্বাসের ভিতটা অনেকখানি নড়ে গেছে। " সব্যসাচীর বেডরুম স্বাভাবিক কারণেই Brat বোঝাই গেছে, আজ ত্নি দশটার আগে ফিরছেন না।বৈশালী সোজা নিজের ঘরে চলে এল। এমনিতেই গরমটা আজ অন্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি। তার ওপর বাবার সঙ্গে মহিলাটিকে দেখে মাথার ভেতর আগুন ধরে আছে। একটা তোয়ালে নিয়ে সে সোজা বাথরুমে চলে গেল।শাওয়ার খুলে মিনিট কুড়ি তার তলায় দাঁড়িয়ে থাকার পর শরীর এবং মস্তিষ্কের উত্তাপ অনেকটা জুড়িয়ে এল বৈশালীর। ভাল করে মাথা টাথা মুছে ঘরে এসে কিমোনো টাইপের পাতলা ম্যাক্সি পরে কোমরে আলগা করে ফিতে বেঁধে নিল। তারপর ধবধবে নরম বিছানায় গা এলিয়ে দিল।এখান থেকে ড্রইংরুমের বেশ খানিকটা অংশ চোখে পড়ে। বৈশালী লক্ষ করল, সুচরিতা আত্মহারা হয়ে টিভি দেখে চলেছেন। বাংলা সিরিয়ালগুলোর স্ট্যান্ডার্ড এত খারাপ যে মাথা ধরে যায়। এন্টারটেনমেন্টের নামে ETF চোখের ওপর অত্যাচার। দিনের পর দিন মা যে কী করে এই সব রাবিশ দেখে চলেছে কে জানে।সুচরিতার কথা সেভাবে এখন ভাবছে না বৈশালী। বিষপোকার মতো সেই চিস্তাটা তার মাথায় কামড় বসিয়েছে। মহিলাটিকে আগে কোথায় দেখেছে সে? হঠাৎ কুয়াশার একটা পর্দা সরে যায় সামনে থেকে। মনে পড়ে, তাদের এই বাড়িতেই এসেছিল। আট দশ মাস আগে, নাকি তারও বেশি? ভেতরে ভেতরে এক ধরনের উত্তেজনা টের পাচ্ছিল বৈশালী। কে পাঠিয়েছিল মহিলাকে? কী কারণে সে এসেছিল?!ভাবনাটা হঠাৎ ছত্রখান হয়ে AT | দরজার সামনে কার যেন ছায়া পড়েছে। চমকে সেদিকে তাকায় বৈশালী। ময়না দাড়িয়ে আছে। রূঢ় গলায় জিজ্ঞেস করে, “A চাই? কে তোকে এখানে আসতে বলেছে?”



Leave a Comment