তারাশঙ্কর-রচনাবলী [খণ্ড-১২] | Tarashankar-rachanabali [Vol. 12]

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
তামস-তপস্থযা 2সাহেব তাহাকে VD থানায় বদলি করিয়া দিয়াছিল । চণ্ডী দারোগা ঘুষ লইয়াছিল, সাহেব তাহার চাকরির মাথা খাইয়া দিয়াছিল ৷ বাবুরা হালে “বন্দেমাতরম্‌' “বন্দেমাতরম্‌ করিয়] যতই সাহেবদের বিরুদ্ধে চীৎকার করুক, তবুও পুলিশ সাহেব ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের উপর পানুর অগাধ বিশ্বাস। এইবারেই স্কুলে প্রাইজ ডিঞ্ট্রিবিউশনের সময় হাতজোড় করিয়া কবিতা বলিয়াছে-“সকলে Hots এস সারি সারি হয়ে,ম্যাজিস্ট্রেট এসেছেন অদ্য বিদ্যালয়ে ।”পণ্ডিত মহাশয় বলেন--রাজপ্রতিনিধি। রাজা দেবতা; সেই দেবতার প্রতিনিধিFerrey রাজি we পথ। তাহাদের গ্রাম হইতে সদর শহর বিশ মাইল দূর। ডিন্টিক্ট-বোর্ডের পাক! সড়কটা জনহীন প্রান্তরের মধ্য দিয়! চলিয়া গিয়াছে, বিশ মাইলের মধ্যে গ্রাম পাওয়া যায় মাত্র দুইখানি। প্রচণ্ড আবেগোচ্ছসিত আক্রোশের বশে সে Tem হইয়া গেল । . মনের মধ্যে এমন তন্ময় হইয়া] সে সাহেবদের সঙ্গে ভাবী সাক্ষাৎকারের কল্পনায় বিভোর ছিল ch, স্ুর্দীপুরের জঙ্গলের সম্মুখীন হইবার পূর্বমূহূর্ত পর্যন্ত তাহার পথের কথা একবারও মনে হয় নাই । জঙ্গলটার মধ্য দিয়াই সড়কটা চলিয়া] গিয়াছে। এই ভয়াবহ স্থানটার সম্মুখে আসিয়াই সে অকস্মাৎ সচেতন হইয়া উঠিল। এই মুহূর্তে মনের Gear Ye ভয় স্বন্দীপুরের বটগাছ ও জঙ্গলের যত ভয়াবহ ইতিহাস লইয়া atti উঠিয়া তাহাকে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিল |সুন্দীপুরের বটতলায় ঠ্যাঙাড়েরা Fetes থাকিত। রাত্রে পথিক একা হইলে তাহার আর রক্ষা থাকিত না। ঠ্যাঙাঁড়ের| এখন লোপ পাইয়াছে, কিন্তু গাছতলার ভয় এখনও যায় নাই। লোকে বলে-্যাঙডাঁড়েরা এখন প্রেত হইয়া গভীর রাত্রে ওই বটতলায় আড্ডা জমায়, গাছের ডালে লম্বা পা ঝুলাইয়া বসিয়] থাকে, অট্রহাসি হাসে । আর যে হতভাগ্যের| একদা ঠ্যাঙাড়ের হাতে মরিয়াছে, তাহারা মাটিতে লুটাইয়া অতি করুণ আর্তনাদে কাদে Pশুধু তাই নয়, আরও আছে। GTN প্রান্তরের বুকে ঘন জঙ্গলের প্রায় মাঝখানটিতে ওই যে বটগাছটি,__যে-বটের নামেই এ স্থানটা পরিচিত-_-ওই বিরাট গাছটার 'এখন অসংখ্য কাণ্ড। কতদিনের পুরানো গাছ কেহ জানে না, তাহার মূল কাওটাও এখন আর খুঁজিয়া পাওয়া যায় ন, পুরানো আমলের ঝুরিগুলাই এখন কাণ্ডে পরিণত হইয়াছে। দিনের বেলায় গাছটার ঘনছায়াচ্ছন্ন তলদেশে Fe মনে হয়, এ মেন কোন cama শিল্পীর গড়া এক বিচিত্র স্তভ্ভ-ভবন ৷ মধ্যে মধ্যে গভীর রাত্রে ওই Hew হইতে “এক- শেয়ালী” ডাক শোন] যায় । একটিমাত্র শেয়ালের অস্বাভাবিক উচ্চ এবং অসাময়িক প্রহর- ঘোষণার শব্ধ । শেয়।লের ডাক নয়, ডাকাতদের সঙ্কেত । হাঁড়ির মধ্যে মুখ fe শেয়।লের ডাকের SASS অসময়ে প্রহর-ঘোষণা করিয়া চারিদিকে ছড়াইয়৷ পড়ে; অন্য কোন শেয়াল সে ডাক শুনিয়া ডাকিয়া! উঠে না; আশপাশের গ্রামগুলিতে নিরীহ গৃহস্কু নরনারী সভয়ে feafan উঠে । পরদিন শোনা যায় কোথাও ডাকাতি হইয়াছে। রাখাল ছেলেরা দিনের বেলায় গরু চরাইতে আসিয়া বহুদিন বটগাছতলায় দেখিতে পায় পোড়া মশালের, ছাই, কাঠকুটার আগুনের আঙার, পোড়া বিড়ির টুকরা, কখনও কখনও দুই-একথানা এটে পাতা; বর্ষাবাদলে মাটি নরম থাকিলে অস্পষ্ট-স্পষ্ট কতকগুল| পায়ের দাগ। চকিতের মধ্যে বিদ্যুদালোকিত মেঘাচ্ছন্ন আকাশের মত স্মুবিষ্তৃত ভয়ঙ্কর ইতিহাসের gs ties জাগ্রত চেতনায়



Leave a Comment