শ্রী শ্রী মা সারদা (কালানুক্রমিক জীবনী ও কথামৃত) | Sri Sri Maa Sarada (Kalanukramik Jibani O Kathamrita)

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
ভাবতেন, “নতুন বৌ, একলা কি করে নাইতে যাব ?” এই চিন্তা করতে করতেই দেখতে পেলেন আটটি মেয়ে হালদারপুকুরের দিকে স্নানে চলেছে। আশ্বস্ত হয়ে তিনিও তাদের সঙ্গেই স্নানে গেলেন। বিনাবাক্যে তারা সারদাকে মাঝখানে নিয়ে সামনে চারজন ও পিছনে চারজন পুকুরে গিয়ে স্নান সেরে আবার আগের মতই তারা সারদাদেবীকে বাড়ি পৌছে দিয়ে গ্রামের পথ ধরে এগিয়ে চলে গেল। এইভাবে যে এক মাস সেবার তিনি কামারপুকুরে ছিলেন প্রতিদিনই তাদের সঙ্গিনীরূপে পেয়েছেন কিন্তু কোনদিনই জানতে পারেননি, তারা কারা, কোথায় থাকে। কয়েকমাস পরে ইংরেজি ১৮৬৬-৬৭ স্রীস্টাব্দের ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে তিনি আবার যখন কামারপুকুরে আসেন তখন শ্রীরামকৃষ্ণ ও জননী চন্দ্রমণি উভয়েই দক্ষিণেশ্বরে। সারদাদেবীর কথায় “আবার পাচ-ছয় মাস পরে গিয়ে কামারপুকুরে দেড়মাস থাকি।... কামারপুকুরে আমার ভাসুর, জা এরা সব ছিলেন।” ১৮৬৭ Bocas মে মাসে শ্রীরামকৃষ্ণ (গদাধর এখন থেকে শ্রীরামকৃষ্ণ) যখন ভৈরবী sarah ও সৃদয়রামকে নিয়ে কামারপুকুরে আসেন তখন সারদাদেবীও পঞ্চমবার শ্বশুরালয়ে আগমন করেন এবং দীর্ঘ সাত মাস সেখানে অবস্থান করেন। এই সময় শ্রীরামকৃষ্ণ স্বয়ং তার সাংসারিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার ভার গ্রহণ করেন। শিক্ষালাভ কালের স্মৃতিচারণ করে সারদাদেবী বলেছেন, “হৃদয়ের মধ্যে আনন্দের পূর্ণঘট যেন স্থাপিত রয়েছে, এ কাল হ'তে সর্বদা এইরূপ অনুভব করতুম। সেই ধীর স্থির দিব্য উল্লাসে অন্তর কতদূর পূর্ণ থাকত তা' বলে বোঝাবার নয়।” সারদাদেবী ভৈরবীকে শাশুড়ীর মতই শ্রদ্ধা করতেন কিন্তু তাকে ভয়ও পেতেন যথেষ্ট। ভৈরবী মাঝে মাঝে রান্না করতেন অতিরিক্ত লঙ্কার ঝাল দিয়ে, যা সকলের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠত না। রামলালের মা ও সারদাদেবীকে সেই ব্যঞ্জীন পরিবেশন করে তিনি তাদের মতামত জানতে চাইলে রামলালের মা PRAIA ও সরলভাবেই ঝালের কথা বলতেন কিন্তু ঝালের প্রচণ্ডতায় চোখে জল ঝরলেও সারদাদেবী বলতেন, “বেশ ভাল হয়েছে।' পরবর্তীকালে সারদাদেবী সকৌতুকে সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। একদিন ভৈরবী saat শ্রীরামকৃষ্ণকে গৌরাঙ্গ-বেশে সজ্জিত করলেন-_চনম্দনচচিত দেহ, কণ্ঠে ও বাহুতে পুষ্পমাল্য | সেই গৌরাঙ্গরূপ কেমন হয়েছে সেটা জানার জন্য টেনে আনলেন সারদাদেবীকে। সারদাদেবী স্বভাবতই লজ্জাশীলা। স্বামী সম্পর্কে শাশুড়িস্থানীয়া কারও কাছে উচ্ছ্বাস প্রকাশ কবা তার পক্ষে অসম্ভব তদুপরি, ছিল ভৈরবী সম্পর্কে Sra ভীতি। সুতরাং তিনি সংক্ষেপে 'ভাল হয়েছে' বলেই সে যাত্রা নিষ্কৃতি পান। ৮



Leave a Comment