পঞ্চমাতৃকা | Panchamatrika

বই থেকে নমুনা পাঠ্য (মেশিন অনুবাদিত)

(Click to expand)
২০ পঞ্চমাতৃকাদায়ী। আমাকে দায়ী ভেবেই হয়ত শ্রীরাম এখানে অবস্থান করছে। আমি এসেছি তাকে নিজের দেশে, নিজের জায়গায় নিয়ে যেতে। তোমাকেও | আমার জন্যে তোমরা কত কষ্ট আর দুঃখ ভোগ করলে। সীতার বুকটা আনন্দে চিনচিন করে উঠল। চোখ বুজে একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস নিল।রাজকীয় সমারোহে ভরত রামচন্দ্রকে নিয়ে অযোধ্যায় যাত্রা করল। অশ্ব, হস্তী, পদাতিক বাহিনীর মধ্যস্থলে রামচন্দ্র ও সীতার সুদৃশ্য সুবর্ণমন্ডিত রথ শোভা পাচ্ছিল। ভরত ছিল রামচন্দ্রের রথের আগে। পশ্চাতে ছিল THI ও হনুমানের রথ। এবং সবশেষে ছিল বাদ্যযন্ত্রীর দল।দীর্ঘপথ।চারিদিকে CAM নীল আকাশ এবং গাছগাছালিতে ঢাকা শাস্ত গ্রামাঞ্চল। পথে একটাও মানুষ দেখা যাচ্ছিল না। হঠাৎ বিশাল রাজকীয় শোভাযাত্রা দেখে গ্রামের ছেলে বুড়ো সবাই বেশ হকচকিয়ে গেল। কোলাহল করে এ ওকে ডেকে ছুটে এল। অবাক বিস্ময় নিয়ে তারা পথপার্্বে দীড়িয়ে রইল।বিশাল বাহিনীর পদধূলিতে গোটা অঞ্চলটা ধুলোয় সাদা হয়ে গেল। গাছের পাতা ধুলোয় মাখামাখি হয়ে কিছুতাকার ধারণ করল।অযোথধ্যায় যেতে বিশাল বাহিনীকে বেশ কয়েকবার থামতে হল। প্রতিবারেই খোলামেলা গ্রামের বাইরে তারা শিবির স্থাপন করল। কখনও বা সামান্য কিছুক্ষণ অবস্থান করে একটু বিশ্রাম ও তৃষ্ণা নিবারণ করে আবার চলতে লাগল।মধ্যাহ্ন শেষ হয়ে গেছে। ধীরে ধীরে অপরাহ্ন গড়িয়ে আসছে। কেমন একটা দীপ্তিহীন পান্ডুরতায় ছেয়ে আছে চরাচর। অযোধ্যা নগরীর আকাশেও একরকম মায়াবী আলো। চেনা নগরীর সব দৃশ্যই তাতে বদলে যায়। সব কিছুতেই একটু রহস্যের স্পর্শ লাগে।অযোধ্যার প্রশস্ত রাজপথের দুধারে অপেক্ষমান কৌতূহলী জনতার ভিড় এখন বেশ। সকাল থেকে সারি সারি লোক অপেক্ষা করছে। তাদের নানা রঙের পোশাক-পরিচ্ছদ। রামধনুর সাত রঙের মত টুকরো টুকরো করে ছড়ানো। যতদূর দৃষ্টি যায় ততদূর পর্যন্ত তারা দেখার চেষ্টা করল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় উপচে রাস্তায় পড়ল। তাদের সামাল দিতে সিপাহী সান্ত্রীরা হিমশিম হয়ে গেল। শীতের দিনেও তাদের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম মুক্তোর মত ফুটে বেরোল।চৌদ্দ বছর পর রামচন্দ্র অযোধ্যায় ফিরছে, রামচন্দ্রের চেয়েও সীতাকে দেখার এমন একটা টান ছিল যে, জনতা জায়গা ছেড়ে নড়ছিল না। আবার কোথাও কোথাও চেনা অচেনা মানুষের একটি ছোট খাটো দল দাড়িয়ে জটলা করছিল। তাদের কোন ব্যস্ততা ছিল না। নিজেদের মধ্যে দুটো দল হয়ে গেল। ভরতের পক্ষেই লোকের সংখ্যা বেশি। এদের অধিকাংশই তরুণ।প্রবীণদের রামচন্দ্রের প্রশংসায় অসহিযু হয়ে একজন সাহসী যুবক সহসা প্রতিবাদ করল। বলল: দেশের ও দশের স্বার্থে রামচন্দ্র কি করেছে চোখে দেখেনি। জানিও না। দেখার ও জানার মত একটা হিতকর কাজের দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে নেই। শুনতে পাই, সাধারণ মানুষের মধ্যে নেমে এসে তিনি তাদের অভাব-অভিযোগের খোঁজখবর নিতেন। কিন্তু তাদের অভাব-অভিযোগের কোন প্রতিকার করতে শুনিনি। রামচন্দ্রের মন ভোলানো এই ছোট্ট সান্নিধ্যটুকু পেয়েই সে যুগের মানুষ ধন্য হয়ে গেছে। রামচন্দ্র আমাদের বয়সী তরুণদের কাছে সত্য-মিথ্যে মেশানো এক কিংবদন্তির নায়ক।কৃষ্ণকায় এক তরুণ তাকে সমর্থন করে বলল: কিন্তু ভরত আমাদের চোখে আদর্শ পুরুষ। মহান মানুষ, তার মত রাজা হয়? হয় না। রাজর্ষি ভরতের সঙ্গে কারো তুলনা চলে না। অথচ, আমাদের বাপ-ঠাকুর্দারা রামচন্দ্র বলতে অল্ঞান। রামচন্দ্রের নামের ভেতর কি মধু আছে জানি না। চোখ থাকতেও তারা ছিল WH | ভরতের ত্যাগ, সততা, স্বার্থহীন মনোভাব, মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও মমতা, প্রজাপ্রীতি রামচন্দ্রের কোথায়?



Leave a Comment